Skip to content
BibleKenya

Biblica® মুক্তভাবে বাংলা সমকালীন সংস্করণের

1 করিন্থীয় 14

বিভিন্ন বরদান ও বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলা

তোমরা ভালোবাসার পথ অনুসরণ করো এবং আগ্রহের সঙ্গে আত্মিক বরদানগুলি কামনা করো, বিশেষত ভাববাণী বলার বরদান। কারণ কেউ যদি কোনো বিশেষ ভাষায়1 কথা বলে, সে মানুষের উদ্দেশে নয়, কিন্তু ঈশ্বরের উদ্দেশে কথা বলে। প্রকৃতপক্ষে, কেউ তার কথা বুঝতে পারে না; সে তার আত্মায়2 গুপ্তরহস্য উচ্চারণ করে। কিন্তু যে ব্যক্তি ভাববাণী বলে, সে মানুষের উদ্দেশে বলে, তাদের শক্তিশালী, প্রেরণা ও আশ্বাস-দান করার জন্যই বলে। যে বিশেষ ভাষায় কথা বলে, সে নিজেকে গেঁথে তোলে, কিন্তু যে ভাববাণী বলে, সে মণ্ডলীকে গেঁথে তোলে। আমি ইচ্ছা করি, তোমরা প্রত্যেকেই যেন বিশেষ বিশেষ ভাষায়3 কথা বলতে পারো। কিন্তু আমি বেশি করে চাইব, তোমরা যেন ভাববাণী বলো। যে ভাববাণী বলে সে, যে বিশেষ সব ভাষায় কথা বলে, তার চেয়ে মহান, যদি না সে মণ্ডলীকে গেঁথে তোলার জন্য সেই ভাষার অর্থ ব্যাখ্যা করে দেয়।

এখন ভাইবোনেরা, আমি যদি তোমাদের কাছে এসে বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলি, অথচ প্রত্যাদেশ, জ্ঞান বা ভাববাণী বা শিক্ষামূলক কোনো কথা না বলি, আমি তোমাদের কোন উপকারে লাগব? এমনকি, বাঁশি বা বীণার মতো যেসব নিষ্প্রাণ বস্তু শব্দ সৃষ্টি করে, সেগুলির স্বরের মধ্যে তফাৎ সৃষ্টি না হলে, কেমন করে লোকে জানবে যে, কোন সুর বাজানো হচ্ছে? আবার তূরীধ্বনির আহ্বান যদি স্পষ্ট না হয়, তাহলে যুদ্ধের জন্য কে প্রস্তুত হবে? তোমাদের সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য। তোমাদের জিভের দ্বারা যদি বোধগম্য বাক্য উচ্চারণ না করো, তাহলে তোমরা কী বলছ, কেউ তা কীভাবে জানতে পারবে? তোমরা যেন বাতাসের সঙ্গে কথা বলবে। নিঃসন্দেহে, জগতে সব ধরনের ভাষা আছে, তবুও সেগুলির কোনোটিই অর্থহীন নয়। তাহলে কারও কথার অর্থ আমি যদি উপলব্ধি করতে না পারি, তাহলে সেই বক্তার কাছে আমি হব বিদেশি,4 আর সেও আমার কাছে হবে বিদেশি। তোমাদের ক্ষেত্রেও একই কথা সত্যি। তোমরা যেহেতু আত্মিক বরদান লাভের জন্য আগ্রহী, সেইসব বরদান লাভের চেষ্টা করো, যেগুলি মণ্ডলীকে গেঁথে তোলে।

এই কারণে, যে ব্যক্তি কোনো বিশেষ ভাষায় কথা বলে, তার প্রার্থনা করা উচিত, যেন সে যা বলে, তা ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিতে পারে। কারণ আমি যদি বিশেষ ভাষায় প্রার্থনা করি, তাহলে আমার আত্মা প্রার্থনা করে, কিন্তু আমার বুদ্ধি ফলহীন থাকে। তাহলে আমি কী করব? আমি আমার আত্মাতে প্রার্থনা করব, কিন্তু আমি আমার বুদ্ধি-সহযোগেও প্রার্থনা করব। আমি আমার আত্মাতে গান গাইব, কিন্তু আমার বোধশক্তিতেও গান গাইব। তা না হলে তুমি যখন তোমার আত্মায় ঈশ্বরের প্রশংসা করো তবে যে শ্রোতা তা বুঝতে পারে না, তোমার ধন্যবাদ দেওয়ায় সে কী করে “আমেন” বলবে? কারণ তুমি কী বলছ, সে তো তা বুঝবেই না! তুমি হয়তো বেশ ভালোভাবেই ধন্যবাদ দিচ্ছ, কিন্তু অপর ব্যক্তিকে গেঁথে তোলা হল না।

আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই যে, তোমাদের সবার চেয়ে আমি অনেক বেশি ভাষায় কথা বলতে পারি। কিন্তু মণ্ডলীর মধ্যে বিশেষ ভাষায় দশ হাজার শব্দ উচ্চারণ করার চেয়ে, আমি বরং পাঁচটি সহজবোধ্য শব্দ বলব।

ভাইবোনেরা, তোমরা শিশুসুলভ চিন্তাভাবনা করা থেকে ক্ষান্ত হও। মন্দ বিষয়ে তোমরা দুধ খাওয়া শিশুর মতো হও, কিন্তু বোধবুদ্ধিতে পরিণত হও। বিধানশাস্ত্রে একথা লেখা আছে:

“ভিনদেশী ভাষাভাষী লোকদের এবং

বিদেশিদের ওষ্ঠাধরের মাধ্যমে,

আমি এই জাতির সঙ্গে কথা বলব,

কিন্তু তবুও, তারা আমার কথা শুনতে চাইলো না,”5

একথা প্রভু বলেন।

তাহলে, বিশেষ বিশেষ ভাষা বিশ্বাসীদের জন্য নয়, কিন্তু অবিশ্বাসীদের জন্য চিহ্নস্বরূপ; কিন্তু ভাববাণী বিশ্বাসীদের জন্য, অবিশ্বাসীদের জন্য নয়। তাই যদি সমস্ত মণ্ডলী একত্রে মিলিত হয় ও প্রত্যেকেই বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলে এবং কোনো ব্যক্তি, যে তা বোঝে না,6 বা কিছু সংখ্যক অবিশ্বাসী ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়, তাহলে তারা কি বলবে না যে, তোমরা পাগল? কিন্তু যদি কোনো অবিশ্বাসী বা অবোধ ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়, যখন সকলেই ভাববাণী বলে, সে তাদের সকলের দ্বারা বুঝতে পারবে যে সে একজন পাপী এবং সকলের দ্বারা সে বিচারিত হবে। তখন তার হৃদয়ের গুপ্ত বিষয়গুলি প্রকাশ হয়ে যাবে। তাই সে মাটিতে পড়ে ঈশ্বরের উপাসনা করবে এবং পরম বিস্ময়ে বলে উঠবে, “সত্যিই, ঈশ্বর আপনাদের মধ্যে বিরাজমান!”

সুশৃঙ্খল উপাসনা

ভাইবোনেরা, তাহলে আমরা কী বলব? তোমরা যখন একত্রে মিলিত হও, তখন প্রত্যেকের কোনো গীত বা উপদেশবাণী, কোনো প্রত্যাদেশ, কোনো বিশেষ ভাষা বা কোনও অর্থ ব্যাখ্যা আছে। এসব অবশ্যই মণ্ডলীকে শক্তিশালী করার জন্য করতে হবে। কেউ যদি কোনো বিশেষ ভাষায় কথা বলে, দুজন বা তিনজনের বেশি তা বলবে; একবারে একজন করে বলবে এবং অন্য কেউ অবশ্যই তার অর্থ ব্যাখ্যা করে দেবে। সেখানে যদি কোনও অর্থব্যাখ্যাকারী না থাকে, সেই ব্যক্তি মণ্ডলীতে নীরব থাকবে এবং নিজের ও ঈশ্বরের উদ্দেশে কথা বলবে।

ভাববাদীরা দুজন বা তিনজন কথা বলবে এবং অন্যরা সযত্নে বক্তব্যের গুরুত্ব বিবেচনা করবে। আর উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ যদি প্রত্যাদেশ লাভ করে, তাহলে প্রথম বক্তা নীরব থাকবে। কারণ তোমরা সকলে পর্যায়ক্রমে ভাববাণী বলতে পারো, যেন প্রত্যেকেই শিক্ষা ও প্রেরণা লাভ করতে পারে। ভাববাদীদের আত্মা ভাববাদীদের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকে। কারণ ঈশ্বর বিশৃঙ্খলার ঈশ্বর নন, কিন্তু শান্তির যেমন পবিত্রগণের7 সমস্ত মণ্ডলীতে হয়ে থাকে।

মণ্ডলীতে মহিলারা নীরব থাকবে। তাদের কথা বলার অনুমতি দেওয়া যায় না, বরং শাস্ত্রীয় বিধানও যেমন বলে, তারা অবশ্যই বশ্যতাধীন থাকবে। তারা যদি কোনও বিষয়ে কিছু জানতে চায়, তারা বাড়িতে নিজের নিজের স্বামীর কাছে তা জিজ্ঞাসা করুক, কারণ মণ্ডলীতে কোনো মহিলার কথা বলা লজ্জাকর ব্যাপার।

ঈশ্বরের বাক্য কি তোমাদের মধ্য থেকেই উদ্ভূত হয়েছিল? অথবা, তা কি কেবলমাত্র তোমাদেরই কাছে উপস্থিত হয়েছে? কেউ যদি নিজেকে ভাববাদী বা আত্মিকভাবে বরদানপ্রাপ্ত বলে মনে করে, তাহলে সে স্বীকার করবে যে, তোমাদের কাছে আমি যা লিখছি, তা প্রভুরই আদেশ। সে যদি তা উপেক্ষা করে, তাহলে সে নিজেই উপেক্ষিত হবে।

অতএব, আমার ভাইবোনেরা, তোমরা ভাববাণী বলার জন্য আগ্রহী হও এবং বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলতে নিষেধ কোরো না। কিন্তু সবকিছুই যথাযথ ও সুশৃঙ্খলভাবে হওয়া উচিত।

Source notes (7)
  1. Footnote বা অজানা ভাষায়; 4, 13, 14, 19, 26 ও 27 পদেও।
  2. Footnote বা আত্মার দ্বারা।
  3. Footnote বা অন্যান্য ভাষায়; 6, 18, 22, 23 ও 39 পদেও।
  4. Footnote গ্রিক: বর্বর।
  5. Footnote যিশাইয় 28:11,12
  6. Footnote বা কোনও সত্যানুসন্ধানী।
  7. Footnote বিশ্বাসীদের।

Biblica® মুক্তভাবে বাংলা সমকালীন সংস্করণের. Copyright © 2022 Biblica, Inc. Licensed under CC BY-SA 4.0. দ্বারা নিবন্ধিত। অনুমতি সহ ব্যবহৃত। “Biblica” is a trademark registered in the United States Patent and Trademark Office by Biblica, Inc. Source: eBible.org. Typeset from the source files; no intended changes to scripture wording. BibleKenya is not endorsed by the rights holder.

Full source notice & licence · CC BY-SA 4.0 · SourceEdition imported 2026-10-25.

BibleKenya

Reader settings

Theme
Font
Alignment
Reading width

Saved in this browser and used offline too. Press ? for keyboard shortcuts.